বৃত্ত হলো এমন একটি বদ্ধ বক্ররেখা যার উপর অবস্থিত প্রতিটি বিন্দু একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে সমদূরত্বে থাকে। ঐ নির্দিষ্ট বিন্দুটিকে কেন্দ্র (Centre) এবং নির্দিষ্ট দূরত্বটিকে ত্রিজ্যা (Radius) বলা হয়।

যদি কেন্দ্র \( O \) এবং বৃত্তের উপর যে কোনো বিন্দু \( A \) হয়, তবে \( OA \) ত্রিজ্যা। অর্থাৎ, বৃত্ত হলো সকল বিন্দুর স্থান যা \( O \) বিন্দু থেকে সমদূরত্বে থাকে।

বৃত্তের মৌলিক উপাদানসমূহ (Basic Elements of Circle)

  • কেন্দ্র (Centre): বৃত্তের সেই নির্দিষ্ট বিন্দু যার থেকে বৃত্তের উপর সমস্ত বিন্দু সমদূরত্বে থাকে।
  • ত্রিজ্যা (Radius): কেন্দ্র থেকে বৃত্তের উপর যে কোনো বিন্দু পর্যন্ত দূরত্ব।
    উদাহরণ: \( OA = OB = r \)
  • ব্যাস (Diameter): কেন্দ্র দিয়ে অতিক্রমকারী ও বৃত্তের উপর অবস্থিত দুইটি বিন্দুকে যুক্তকারী রেখাংশ।
    যেমন, \( AB \) হলো ব্যাস যদি \( O \) কেন্দ্র হয়।
    সূত্র: \( \text{Diameter} = 2r \)
  • জ্যা (Chord): বৃত্তের উপর অবস্থিত দুইটি বিন্দুকে যুক্তকারী রেখাংশ।
    ব্যাস হলো সবচেয়ে বড় জ্যা।
  • পরিধি (Circumference): বৃত্তের চারপাশের দৈর্ঘ্য।
    সূত্র: \( C = 2\pi r \)
  • ক্ষেত্রফল (Area): বৃত্তের অভ্যন্তরের ক্ষেত্র।
    সূত্র: \( A = \pi r^2 \)
  • বৃত্তখণ্ড (Arc): বৃত্তের পরিধির কোনো অংশ।
  • সেক্টর (Sector): বৃত্তের দুটি ত্রিজ্যা ও তাদের মধ্যবর্তী বৃত্তখণ্ড দ্বারা গঠিত অংশ।
  • সেগমেন্ট (Segment): বৃত্তের একটি জ্যা ও ঐ জ্যার উপরিতলীয় বৃত্তখণ্ড দ্বারা বেষ্টিত অংশ।
  • স্পর্শক (Tangent): বৃত্তকে একটি মাত্র বিন্দুতে ছেদ করে এমন সরলরেখা।

বৃত্তের মৌলিক সূত্রাবলি (Basic Formulas)

বিষয় সূত্র
পরিধি \( C = 2\pi r \)
ক্ষেত্রফল \( A = \pi r^2 \)
ব্যাস \( D = 2r \)
ত্রিজ্যা \( r = \dfrac{D}{2} \)

উদাহরণ

যদি কোনো বৃত্তের ত্রিজ্যা \( r = 7\,\text{cm} \) হয়, তবে—

  • পরিধি, \( C = 2\pi r = 2 \times \pi \times 7 = 44\,\text{cm (প্রায়)} \)
  • ক্ষেত্রফল, \( A = \pi r^2 = \pi \times 7^2 = 154\,\text{cm}^2\,(\text{প্রায়}) \)